অ্যালোভেরা চাষে কোটিপতি: ফেলে দেওয়া ৪ হাজার চারা দিয়ে বদলে গেল জীবন
বিশেষ প্রতিবেদন:
মাত্র ৩ একর জমিতে অ্যালোভেরা চাষ করে বছরে কোটি টাকার ব্যবসা করছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের সাতারার কৃষক হৃষিকেশ জয়সিং ধানে। তবে তার এই সফলতার মূল চাবিকাঠি শুধু কাঁচা পাতা বিক্রি করা নয়, বরং চাষের পাশাপাশি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের অনন্য কৌশল।
পরিত্যক্ত চারা থেকে সাফল্যের শুরু
হর্টিকালচারে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনকারী হৃষিকেশ ধানে শুরুতে একটি সার সংস্থায় কাজ করতেন। ২০০৭ সালের দিকে এলাকার কিছু কৃষক প্রতারণার শিকার হয়ে অ্যালোভেরা চাষ বন্ধ করে দেন এবং চারাগুলো ফেলে দেন। হৃষিকেশ সেই ফেলে দেওয়া প্রায় ৪,০০০ চারা কুড়িয়ে নিজের জমিতে আম ও আমলকী গাছের মাঝে রোপণ করেন।
অন্যান্য কৃষকরা কেবল বাজারের ওপর নির্ভর করলেও হৃষিকেশ তার পড়াশোনা ও গবেষণাকে কাজে লাগান।
কাঁচা অ্যালোভেরার পাতা প্রতি কেজি প্রায় ২৫ টাকা দরে পুনে ও মুম্বাইয়ের প্রসাধনী ও ওষুধ কোম্পানিতে বিক্রি শুরু করেন।
পরবর্তীতে নিজে অ্যালোভেরা থেকে প্রসাধনী (সাবান, শ্যাম্পু, জুস) এবং অর্গানিক কৃষি পণ্য (জৈব কীটনাশক, প্ল্যান্ট গ্রোথ প্রোমোটার) তৈরি শুরু করেন।
বর্তমানে তিনি বছরে প্রায় ৮,০০০ লিটার অ্যালোভেরাভিত্তিক অর্গানিক পণ্য উৎপাদন করেন এবং তার ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার সাড়ে ৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
অ্যালোভেরা চাষের সুবিধা
দীর্ঘস্থায়ী উৎপাদন: একবার রোপণ করলে টানা ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত পাতা তোলা যায় এবং প্রতিনিয়ত নতুন চারা জন্মায়।
কম খরচে রক্ষণাবেক্ষণ: খরার মতো শুষ্ক অঞ্চলেও খুব কম পানিতে এই গাছ বেঁচে থাকে।
বহুমুখী বাজার: আয়ুর্বেদিক ওষুধ, বিউটি প্রোডাক্ট এবং প্রক্রিয়াজাত জুসের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
কোথা থেকে পাবেন ভালো মানের চারা?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক চাষের জন্য উন্নতমানের অ্যালোভেরা চারা সংগ্রহের সেরা কিছু উৎস:
সরকারি উদ্যান কেন্দ্র (Horticulture Centers): বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনস্থ জেলা পর্যায়ের হর্টিকালচার সেন্টার বা কাশিমপুর উদ্যান কেন্দ্র থেকে ভাইরাস মুক্ত ও বিশুদ্ধ চারা পাবেন।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) বা বিএআরআই (BARI)-এর নার্সারিগুলো থেকে নির্ভরযোগ্য চারা সংগ্রহ করা যায়।
বাণিজ্যিক নার্সারি: সাভার, বগুড়া এবং যশোরের প্রতিষ্ঠিত নার্সারিগুলো থেকে পাইকারি দরে চারা পাওয়া যায়। চারা কেনার সময় 'বেবি সাকার' বা গোড়া থেকে ওঠা ভালোমানের শিকড়যুক্ত সুস্থ চারা নির্বাচন করা জরুরি।
সূত্র:লাইফ লেসনস
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।